Tech Panacea Aminul Islam

লকডাউনে পরিবার কে অনেক সময় দিতে পেরেছি

ক্যারিয়ার
দেশ এখন একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। গত মার্চের মাঝামাঝিতে দেশে প্রথম করোনা রোগী (করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত) সনাক্ত হয় এবং তখন থেকেই মুলত আমাদের বিপর্যয় শুরু।মানুষের মাধ্যমে দ্রুত এই ভাইরাস ছড়ায় বলে এটার বিস্তার রোধে সামাজিক দুরত্ব টা মেনে চলা খুব জরুরী।

 

 

সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ভাইরাস বিস্তার রোধে গত ১৬ মার্চ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যেহেতু আবাসিক হল গুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো সেহেতু তখন জরুরী ভিত্তিতে বাড়িতে (টুংগীপাড়া, গোপালগঞ্জ) চলে আসি। গত ১৮ ই মার্চ আমি বাড়িতে আসালাম। বাড়িতে আাসার পর করোনাকালীন এই সময়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।

 

 

 বাড়িতে এসে যা বুঝলাম তাতে মনে হলো গ্রামের মানুষ ভাইরাস টা নিয়ে বেশি সচেতন ছিলো না। হাট বাজার রাস্তা ঘাটে স্বাভাবিকভাবেই মানুষজন চলাফেরা করতো। যদিও এপ্রিল থেকে শুরু করে ৩/৪ মাস পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী হাটবাজার গুলোতে টহল দিতো যাতে কোথাও জনসমাগম না হয়। তারপরও দেখতাম বিভিন্ন যায়গায় জনসমাগম হচ্ছে, পুলিশ আসলে সমাগম ভেঙে যাচ্ছে, পুলিশ চলে গেলে আবার হচ্ছে। এভাবেই চলে আসছে এখানে।

 

 

গ্রামে আমাদের প্রয়াস নামে একটা সংগঠন আছে। প্রয়াসের কার্যক্রম মুলত পুরো টুংগীপাড়াতেই করার চেষ্টা করছি আমরা। গ্রামের মানুষ গুলোর ভিতর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সমাজিক সংগঠন #প্রয়াস এর মাধ্যমে করোনাকালীন সময়ে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে জানাতে মাইকিং করি এবং লিফটলেট বিতরণ করি। এছাড়াও প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা বিনামুল্যে হ্যান্ড গ্লাভস এবং মাস্ক বিতরণ করি। মানুষের কাছে গিয়ে তাদের বুঝিয়েছি।

 

 

লকডাউনের ওই সময় টা তখন খুব অলসতার ভিতর দিয়ে যেতো। সারাদিন ঘরের ভিতর থাকা, মুভি দেখা, ঘুমানো এভাবেই দিন কাটতো। অবশ্য অনেকগুলো বই পড়া হয়েছে তখন যেগুলো খুব জরুরী ছিলো। মাঝে মাঝে বিকালে নৌকায় ঘুরতে বের হতাম, সীমিত পরিসরে খেলাধুলা ও করতাম। সারাদিন ঘরে থাকতে একঘেয়েমি চলে আসতো, মাঝে মাঝে মানসিকভাবে বিচলিত হয়ে পড়তাম। অনেক সময় জেলা সদরে যেতে হতো বিভিন্ন দরকারে, যদিও তখন খুব সাবধানতা অবলম্বন করতাম তারপরও কেমন মনে হতো যে ভাইরাস বুঝি এবার শহর থেকে নিয়েই আসছি। মানে সবসময় একটা সংশয়ের ভিতর থাকতাম।

 

 

আমার বিবিএ শেষ, মানে এখন চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। কিন্তু করোনাকালীন সময়ের এই সংশয় এবং মানসিক প্রস্তুতির অভাবে বইখাতা ধরার কোন সুযোগ হয় নাই।লকডাউনে একটা জিনিস খুব ভালো হয়ছে যে পরিবার কে অনেক সময় দিতে পেরেছি। পরিবারের ভালো মন্দ খুব কাছ থেকে দেখেছি। করোনাকালীন সময়ে প্রত্যেকের করণীয় সম্পর্কে কাছ থেকে বলতে পেরেছি। যতটুকু পেরেছি নিজের পরিবারকে আল্লাহ’র কৃপায় মহামারী থেকে নিরাপদ রেখেছি।

 

 

লকডাউনের সময়ে ব্যস্ততা বলতে কিছু ছিলো না। এই সময়টাতে নিজেকে ও অনেকটা সময় দিতে পেরেছি। নিজের শক্তি বা দুর্বলতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি।যাইহোক, কিছুটা ভালো সময় এবং অনেকটা সংশয় এর মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত হচ্ছে। আল্লাহ যেনো আমাদের দেশ তথা সমগ্র বিশ্বকে এই মহামারী থেকে হেফাজত করুক। সবাই নিরাপদ থাকি, সুস্থ থাকি।
আমিনুল ইসলাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published.