Tech Panacea Md Samir MIa

তিনমাস বাসা ভাড়া বকেয়া করলো করোনা, পাশে পেলাম বন্ধুদের

ক্যারিয়ার
১৬ মার্চ, ২০২০।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে টিউশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিবো। এরই মধ্যে হলে (শহীদ আব্দুর রব) হৈচৈ শুরু হয় গেলো। শুনলাম কোন এক রুমে নাকি ইতালি ফেরত একজন লোক আছে। তখন ইতালিতে করোনার কারণে করুণ অবস্থা চলছিল। তাই হলের সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠে। প্রশাসনের কানে খবর গেলে প্রশাসন তৎক্ষনাৎ তার ব্যবস্থা করে। ওইদিন আর টিউশনে যাওয়া হলো না। এরই মধ্যে প্রশাসন কর্তৃক শর্ট নোটিশে শুনি যত দ্রুত সম্ভব সকল হল খালি করে দিতে হবে। মানে ক্যাম্পাস অফ হয়ে যাবে। ২০-২৫ দিনের জন্য সবকিছু বন্ধ থাকবে।নিউজটা শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। বাসায় এসে আরামসে কয়েকটা দিন কাটাবো। তাই ১৫-২০ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।

 

 

কিন্তু এই যে আসলাম আজও আর যাওয়া হলো না! প্রায় ৬ মাস হয় গেলো ক্যাম্পাসে আর ফেরা হলো না।
বাড়িতে আসার এক মাস পর দেখলাম করোনা সংক্রমণ দিনদিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না এত সহজে। খুব দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। কারণ ভার্সিটিতে থেকে টিউশন করিয়ে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে নিজের খরচ বহন করার পরও বাসায় টাকা পাঠাতে হতো। কারণ আব্বুর অবস্থা তেমন ভাল না। উনি যা ইনকাম করে তা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। তাই সংসার চালানোর প্রায় ৫০% আমি বহন করি।

 

 

কিন্তু ক্যাম্পাস অফ তার মানে আমার ইনকাম অফ আবার করোনা পরিস্থিতির কারণে আব্বুর ইনকামও আগের তুলনায় অর্ধেকের চেয়ে আরো নিচে নেমে আসলো। এদিকে বাসা ভাড়া জমতে জমতে জমে গেলো ৩ মাসের। বাসার মালিকও ক্ষিপ্ত। অকথ্য ভাষায় বাসার ভাড়া দিয়ে বাসা ছেড়ে দেয়ার অর্ডার দিয়ে দিলেন।একসাথে এতগুলো টাকা কোত্থেকে ম্যানেজ করবো বুঝতে পারছিলাম না। এই সময়ে আমার বন্ধুবান্ধবগুলোকে পাশে পেলাম। টাকা জোগাড় করে বাসা ভাড়া দিয়ে বাসা চেঞ্জ করে ফেললাম। এতদিন যাওয়ার পরেও যখন দেখলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না তখন আর বসে থাকতে পারলাম না।

 

 

বাসাতেই স্টুডেন্ট পড়ানো শুরু করে দেই। সামান্য একটু হলেও সংসারের হালটা ধরা গেলো এর মাধ্যমে।
স্টুডেন্ট পড়ানোর পাশাপাশি কয়েকটা অনলাইন কোর্সও করলাম। একাডেমিক পড়াশোনা থেকে তো আপাতত বহুদূর আছি। কিন্তু নেক্সট মান্থ থেকে নাকি অনলাইন ক্লাস নেয়া শুরু হবে। তখন দেখা যাক কি হয় ।

 

 

এছাড়াও এই কোয়ারেন্টাইনে অনেক অনেক মুভি সিরিজ দেখে ফেললাম যা ক্যাম্পাস খোলা থাকলে সম্ভব হতো না।
এখন পরিস্থিতি ধীরেধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ভ্যাক্সিন চলে আসলে আর কোনো টেনশন করতে হবে না। আল্লাহর কাছে এই একটা প্রার্থনা যেন সবকিছু আগের মত হয়ে যাক যেন সবাই আবার আগের মত স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারি।
মোঃ সামির মিয়া
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published.